ঢাকা, ২৪ এপ্রিল- ২০২৪
'মৃত জন্মভূমি'
-আরিফ রেজা
ঐ যে দেখছিস খোকা
চরছে গরু জোড়ায় জোড়ায় রাখাল কয়েক গোটা ;
ঐখানেতে ছিলো আমার সেই চপলা নদী,
কতো দেশ যে ঘুরে এলাম পাইনিতো সে ছবি।
পানকৌড়ি মাছরাঙাদের দৌরাত্মের ভিড়ে,
কতো নাও যে ভিড়িয়ে গেলো সেই নদীটির তীরে।
পানশী ছিলো জেলে নৌকা কেয়ারা মহাজনি,
সুর বাঁধতো বুনো হাঁসের ছলাৎ ছলাৎ ধ্বনি।
রোদ মাখানো ক্লান্ত ডানায় গাঙচিলেদের দল,
জেলের জালে পড়তো ধরা রূপার শস্য ফল।
দু'ধার ছিলো কাশবনেতে ঢাকা মেঠোপথ,
কৃষাণ বৌয়ের ঘুঙুর বাজতো গরুর গাড়ির রথ।
ফাগুন মাসের দুপুর ঘাসে রোদ বাতাসের খেলা,
সন্ধ্যাকাশে আসতো ভেসে শুভ্র মেঘের ভেলা।
বাতাস ছিলো হালকা সেথা সোনার ভরা মাঠ,
একটু দূরেই হাঁটলে পাবি কলমিলতার হাট।
সড়ক ধরে ঐ যে সোজা গেছে যেপথ গঞ্জে,
রানার ছুটতো এই সে পথে খবর যে তার সঙ্গে।
সাঝের বেলায় ফিরতো গোয়াল দুধের পাত্র নিয়ে,
দিনের বেলায় বেচতো সদাই দূরের গঞ্জে গিয়ে।
ক্লান্ত সুরুজ পড়তো ঢুলে দিগন্তেরই ঝিলে,
ফিরতে হবে ব্যস্ত সবাই সাত পহরের বিলে।
শ্যাওলা চড়ে আসতো ভেসে কতো রাজার ধন,
সোনার চুলের রাজপুত্র ধরতো যে তার গান।
মৎস্য পুরির মৎস্য কন্যা আলতো সুরের টানে,
আকুল হয়ে উঠতো ভেসে জল জোছনার বনে।
রূপকথা আর কোথায় পাবি শোনরে খোকা শোন,
ঐ দেখা যায় ঐখানেতে ছিলো হরিৎ বন।
কৃষ্ণচূড়ার ডালে ডালে বসন্তেরই কালে,
ফুল ফুটতো থোকায় থোকায় রক্ত আগুন মনে।
চৈত্র মাসের দগ্ধ রোদে কৃষাণ লাঙ্গল কাঁধে,
ক্লান্ত শরীর কন্ঠে যে তার হিমেল হাওয়া ঝরে।
বর্ষা ঋতু খুশির হেতু চঞ্চলাদের দলে,
দাড়কানা আর কতো রঙিন খোলসে পাবে বলে।
বুকের ভিটায় বাড়ির সিঁথায় ছিলো কাজলা দিঘী,
জল যেনো তার দুঃখী মেয়ের অশ্রু নিরবধি।
জোনাক পোকার মিছিল হোতো ঝোপ বাঁশেরই বনে,
হুক্কা হুয়া ডাকতো শেয়াল ঝিঝির মাতম শুনে।
ছোট্ট খুকু ছুটতো শুধু নুপুর জোড়া পরে,
গাঁয়ের মেলায় জমতো আসর পালা গানের সুরে।
ঐ দেখা যায় শুকনো মরা গাঙের রেখার ওপার,
শুন্য বিরান ধুধু মরু বালুর তেপান্তর।
একসময়ে ছিলো সেথা সাজানো এক ছবি,
নদীর ভাঙন নিলো কেড়ে মোদের চারণভূমি।
সেদিন ছিলো মস্ত জোয়ার আজ যে তাহার মৃত দু'ধার
লুপ্ত বনভূমি-
তার ওপাশেই কাঁদছে আমার সাধের জন্মভূমি...।।
bongotv /
আপনার মতামত লিখুন: