"তুমি সুখে নেই বলে"
-আরিফ রেজা
লিখেছো, সুখে নেই-
কোথাও যেন হয়ে গেছে ভুল একটুখানি।
হাঁড়ি-পাতিলের খেলা, রান্নাঘর,
হাসি, রাগ, দুঃখ, ক্ষোভ, আপোষ...
স্বামী নামের যন্ত্র...
পার্টনারশিপের বিছানাকে ছাপিয়ে,
দেখেছো সেদিন সেই নির্জন দ্বীপের খাঁখাঁ শূন্যতা...।
পাথরের বেদীতে একাকী তরুণীর অপেক্ষমান
চোখের কোণ বেয়ে নেমে আসা
শুকনো জলের ধারার মতো, মনে পড়েছে আমাকে ;
জানতে চেয়েছো,কেমন আছি...(?)
তুমি সুখে নেই বলে, পৃথিবীর আজ বড্ড দুঃসময় -
শত-শত নক্ষত্রের মৃত্যু হয়ে গেলো হঠাৎ করেই,
শুধু তোমার জন্য...।
তুমি সুখে নেই বলে -
ক্ষুধার্ত সময়ের অপরিসীম প্রতিক্ষায় কাটে সানকি হাতে
হাড্ডিসার বৃদ্ধার চঞ্চল চোখ পথের বাঁকে ;
পুনর্বাসনের বদলে দুর্গত মানুষের ছবি বিক্রি হয়
উঁচু দরে আন্তর্জাতিক বাজারে...।
তুমি সুখে নেই বলে -
বিবাগী যুবক একদলা আগুনে দেখে তোমার মুখ,
অধোরে অধোর রেখে হাজার হাজার পুষ্পের সৌরভে
নিমজ্জিত প্রেমিক পুরুষ,
ভালোবাসার নামে করে, যুবতীর সতিত্ব অপহরণ...।
তুমি সুখে নেই বলে -
কৃপণের হাতে জমে ওঠা একরাশ
আধুনিক কবিতার অকাল মৃত্যুতে
দ্রুত ফুরিয়ে যায়,
চপলা নদীর মতো চঞ্চলা তরুণীর টগবগে যৌবন
রাত্রির আলস্যে...।
তুমি সুখে নেই বলে -
এই মেকি শহরের বুকে সততার জঞ্জাল সরিয়ে
এখনো ঢুকে পড়ে জলপাই রঙ কনভয়,
সবুজ গালিচায় ফুল ফোঁটায় তাজা রক্ত,
সাধারণ মানুষের...;
ফুলের ডালিতে ন্যূব্জ্য জনদরদির খদ্দর
ভিজে যায় বারবার কুম্ভীরাশ্রুতে,
শুধু তোমার কথা ভেবে...।
তুমি সুখে নেই বলে -
বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলো নির্বাচিত সরকার ;
যৌতুক নামক কৌতুকে ভাঙলো
গফুর শেখের মেয়েটির কপাল দ্বিতীয়বার...।
তুমি সুখে নেই বলে -
এই জগৎ মঞ্চ থেকে বাতি নেভেনা কখনো
যুদ্ধ যুদ্ধ নাটকের ;
বিশ্ব মোড়লেরা মদের টেবিল আর যুদ্ধের ময়দানে
নিরলস রচনা করে চলেছে এক বায়বীয় মানবতার
উৎকৃষ্ট তরল সংস্করণ...।
তুমি সুখে নেই বলে -
ধূলিমলিন ছেঁড়া মলাটের বুকের ভাঁজে ভাঁজে
নিভৃতে কেঁদেছে কতো অনাথ কবিতা;
সূর্যের কাছে আকুল প্রার্থী হয়ে সুকান্ত চেয়েছিল
যে শিশুটির জন্য একমুঠো উত্তাপ,
তুমি সুখে নেই বলে, শুধু সেই উলঙ্গ অবুঝ শিশুটিই
দু-দুবার বগল বাজিয়ে নিলো খুশিতে...।
তুমি সুখে নেই বলে -
মহাজনের কাছে বাধা পড়েছে এবার পূব পাশের জলাটি-।
মাত্র দুবিঘা জমিতে ফসল ফলেনি বলে,
ঈদবাবু একটু ঘুরে গিয়ে মল্লিকদের বাড়ির পর দিয়ে
সোজা চলে গেছে চৌধুরীদের সীমানায়...।
আতসবাজি আনন্দ পটকার শব্দ শুনি সারারাত -
অথচ একফোঁটা কেরোসিনের অভাবে,
আঁধার বুড়ী বেঁধেছে বাসা আমাদের ভিটেয়...;
পাওনাদারের বিশাল প্রতিপত্তির নিচে
চাপা পড়েছে হালের বলদ;
কাঁধের লাঙ্গল বুক চিরে বের করে নিয়েছে
সম্ভ্রমের হাতিয়ার...
যদিও বৃদ্ধ পিতার অনুর্বর হাতে বেশ রুষ্ট পুষ্ট হয়েছে
ঋণের চারাটি,সেতো তুমি সুখে নেই বলেই...
তুমি সুখী হও-
মধ্যবিত্তের সাধারণ সুখে নয়;
পৃথিবীর খুব কম মানুষই সন্ধান পেয়েছে যে সুখের।
তুমি সুখী হও, হে সুখের প্রতিমা-
এই অসম্ভব সুন্দর পৃথিবীর,
বেঁচে থাকার বড্ড প্রয়োজন...।।
bongotv /
আপনার মতামত লিখুন: